চুকনগর গণধর্ষণের পর হত্যা শিকার নারীর মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত

IMG_20240914_114447.jpg

Oplus_131072

সরদার বাদশা নিজস্ব প্রতিবেদক::::::  ডুমুরিয়ায় গণধর্ষণের পর হত্যা শিকার নারীর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের হস্তান্তর করেছে থানা পুলিশ। ১২ই সেপ্টেম্বর  সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার রোস্তমপুর গ্রাম থেকে ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আরাফাত হোসেনের উপস্থিতিতে কবর খুঁড়ে লাশটি উত্তোলন করে ডুমুরিয়া থানা পুলিশ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, খুলনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল-বি) মোঃ আসিফ ইকবাল, ডুমুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল হক ও খুলনা সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ডাঃ সাদিয়া। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আসিফ ইকবাল

 

বলেন, যেহেতু ধর্ষনের পর হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং বিনা ময়নাতদন্তে লাশটি দাফন করা হয়েছিল তাই আদালতের অনুমতিক্রমে ময়নাতদন্তের জন্যে লাশটি কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর আজই পুনরায় দাফনের জন্যে লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা। উল্লেখ্য উপজেলার চুকনগর রোস্তমপুর এলাকায় মামলার বাদী ও ভিকটিমের পিতা সুরোত আলি শেখের পারিবারিক কবরস্থান থেকে লাশটি উত্তোলন করা হয়। এর আগে গত বুধবার ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলায় আসামি ছাত্রলীগ নেতাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান খুলনা। মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার রোস্তমপুর এলাকার সুরোত আলি শেখের মেয়ে জুলেখা খাতুন (১৮) কে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে ওড়না দিয়ে চোখ মুখ বেঁধে বুড়িভদ্রা নদীর চরে নির্জন পাটক্ষেতের মধ্যে নিয়ে রাতভোর গণধর্ষণ করে হত্যা করে একদল দুর্বৃত্ত। পালাক্রমে গণধর্ষণের পর ঘটনাস্থলে ভিকটিমকে হত্যা করা হয়

 

বলে মামলার অভিযোগে উলে­খ করা হয়েছে। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে গত ৬ আগস্ট পাটক্ষেত থেকে অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন দাফন সমপন্ন করে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে চুকনগর ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও চাকুন্দিয়া গ্রামের নজরুল গাজীর ছেলে পেশাদার চোর মাদক কারবারি ইমরান হুসাইন গাজী (৩০) চুকনগর সদরের শংকর ফকিরের ছেলে যুবলীগ কর্মী রাম ফকির (২৫) ও মিন্টু ফকির (২৬) কে গ্রেফতার করে র‌্যাব। গত ২ সেপ্টেম্বর  ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উলে­খসহ আরও

 

৩/৪ কে অজ্ঞাত আসামী করে গণধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে ডুমুরিয়া থানায় দায়েরকৃত মামলায় অপর আসামিরা হলো সবুজ (২২) আসাবুর রহমান আশিক (২৬), বাবু মোড়ল (২২) ও ইমন সরদার (২২)। কিন্তু তারা এখনও রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ওসি তদন্ত শাহিনুর রহমান জানান গণধর্ষণে হত্যার শিকার ভিকটিমের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য আদালতের অনুমতি ক্রমে কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেন্সিক বিভাগ থেকে ময়নাতদন্ত শেষে লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top